লোডশেডিং, লম্বা যাত্রা বা সারাদিন বাইরে থাকা — পাওয়ার ব্যাংক এখন প্রায় সবার দরকার। কিন্তু শুধু বেশি mAh দেখে কিনলে অনেক সময় ঠকতে হয়। কেনার আগে এই ৬টি বিষয় দেখে নিন।
১. ক্যাপাসিটি (mAh) — আসলে কতবার চার্জ হবে?
পাওয়ার ব্যাংকের গায়ে লেখা mAh হলো ভেতরের ব্যাটারি সেলের ক্যাপাসিটি। ভোল্টেজ রূপান্তর ও তাপে কিছু শক্তি খরচ হয়, তাই বাস্তবে আপনি সাধারণত লেখা ক্যাপাসিটির প্রায় ৬০–৭০% পান। অর্থাৎ 10,000mAh পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে ৪,০০০–৫,০০০mAh ব্যাটারির একটি ফোন মোটামুটি ১.৫ বার চার্জ হতে পারে।
- 10,000mAh: প্রতিদিনের ব্যবহার, হালকা ও পকেটে রাখা যায়।
- 20,000mAh: লম্বা ভ্রমণ, লোডশেডিং বা একাধিক ডিভাইসের জন্য।
২. আউটপুট ওয়াট — দ্রুত চার্জ হবে কিনা
পাওয়ার ব্যাংকের আউটপুট (যেমন 20W বা 22.5W) যত বেশি এবং আপনার ফোনের সাথে প্রোটোকল যত মিলবে, চার্জ তত দ্রুত হবে। আধুনিক ফোনের জন্য USB-C PD সাপোর্ট থাকা পাওয়ার ব্যাংক বেছে নিন।
৩. পোর্টের ধরন ও সংখ্যা
USB-C পোর্ট এখন সবচেয়ে জরুরি — এটা দিয়ে ফোন চার্জ দেওয়া এবং পাওয়ার ব্যাংক নিজে চার্জ নেওয়া দুটোই দ্রুত হয়। একসাথে দুটি ডিভাইস চার্জ দিতে চাইলে অন্তত দুটি আউটপুট পোর্ট দেখুন।
৪. ওজন ও আকার
ক্যাপাসিটি বাড়লে ওজনও বাড়ে। প্রতিদিন পকেটে বা ব্যাগে রাখতে চাইলে স্লিম 10,000mAh, আর বাসায় বা ভ্রমণে ব্যাকআপ হিসেবে 20,000mAh ভালো।
৫. নিরাপত্তা সুরক্ষা
ভালো পাওয়ার ব্যাংকে ওভারচার্জ, ওভারহিট ও শর্ট-সার্কিট প্রোটেকশন থাকে। অস্বাভাবিক কম দামের পাওয়ার ব্যাংকে এসব সুরক্ষা প্রায়ই থাকে না, যা ফোন ও আপনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
৬. বিমানে নেওয়ার নিয়ম
বেশিরভাগ এয়ারলাইন হ্যান্ড লাগেজে 100Wh পর্যন্ত পাওয়ার ব্যাংক বহনের অনুমতি দেয় (চেক-ইন লাগেজে নয়)। সাধারণ 20,000mAh (3.7V) পাওয়ার ব্যাংক প্রায় 74Wh, তাই সাধারণত এর মধ্যে পড়ে — তবে ভ্রমণের আগে নিজের এয়ারলাইনের নিয়ম দেখে নিন।
কোনটা কিনবেন?
প্রতিদিনের জন্য 10,000mAh স্লিম পাওয়ার ব্যাংক, তারছাড়া চার্জিং চাইলে ম্যাগনেটিক পাওয়ার ব্যাংক, আর লোডশেডিং বা ভ্রমণের জন্য 20,000mAh পাওয়ার ব্যাংক সবচেয়ে ভালো পছন্দ।